| বিস্তারিত |
নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুকির মধ্যে জামায়াতসহ ১২টি ধর্মভিক্তিক রাজনৈতিক দল
বাহাত্তরে সংবিধানে দেশ ফিরে গেলে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত ৩৮টি দলের মধ্যে ধর্মভিত্তিক অন্তত ১২টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ঝুঁকির মুখে। দলগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্য জোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাকের পার্টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। মূল সংবিধানে অনুচ্ছেদ- ৩৮ এ বলা হয়েছে, জনশৃংখলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত মুক্তি সংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিবার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে। তবে শর্ত থাকে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী কোন সাম্প্রদায়িক সমিতি বা সংঘ কিংবা অনুরূপ উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যানুসারী ধর্মীয় নামযুক্ত বা ধর্মভিক্তিক অন্য কোন সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার বা তাহার সদস্য হইবার বা অন্য কোন প্রকারে তাহার তৎপরতায় অংশগ্রহণ করিবার অধিকার কোন ব্যক্তির থাকিবে না। ৫ম সংশোধনী অনুচ্ছেদ- ৩৮তে শুধুমাত্র নেওয়া হল, জনশৃংখলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত মুক্তি সংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিবার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে। বাদ দেওয় হয়েছিল পরের প্যারাটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার সংবিধান সংশোধন করে ৭২ সালের সংবিধানে ফিরে গেলে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে ওইসব তথাকথিত ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। ফলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ৯০/এইচ ধারা অনুসারে এসব রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনও বাতিল করতে বাধ্য হবে ইসি।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, সংবিধান অনুযায়ী সরকার ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ করলে ইসি তখন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আরপিও অনুযায়ী কোনো কারণে সরকার কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করলে ইসি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করবে। নিবন্ধন বাতিল করা হলে ধর্মভিত্তিক দলের বর্তমান সংসদ সদস্যদের (এমপি) পদও বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইন অনুযায়ী ধর্মীয় অনুশাসন ও ধর্মীয় নিয়ম-কানুন প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে এমন সব দলকে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর ৭২ এর সংবিধান এ ধরনের রাজনৈতিক দলকে অনুমোদন দেয় না। এমআরএম/২৯-৭-১০
| |
|
|